নওগাঁর মহাদেবপুরে অধিক মুনাফার লোভে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ডিজেল মজুত রাখার অভিযোগ উঠেছে মেসার্স মদিনা ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে। পাম্পটি বন্ধ রেখে সাধারণ গ্রাহকদের ফিরিয়ে দিলেও গোপনে রাতের আঁধারে বেশি দামে তেল বিক্রির সময় হাতেনাতে ধরেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। পরে প্রশাসনের উপস্থিতিতে সেখানে ৩ হাজার ৯০০ লিটার ডিজেলের মজুত পাওয়া যায়। গত শনিবার রাতে উপজেলার এনায়েতপুরে অবস্থিত ওই ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে বনভোজন থেকে ফেরার পথে সাংবাদিকদের বহনকারী একটি বাসের তেল শেষ হয়ে যায়। বাসটি মদিনা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গেলে পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায় কোনো তেল নেই। এ সময় পাম্প মালিকের ছেলে আসিফ সাংবাদিকদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করেন। তবে সাংবাদিকরা লক্ষ্য করেন, পাম্পের ভেতরে একটি ট্রাকে ১৫ হাজার ২৭৭ টাকার তেল দেওয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে ট্যাগ অফিসার ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তার উপস্থিতিতে পাম্পের রিজার্ভার পরিমাপ করা হলে সেখানে ৩ হাজার ৯০০ লিটার ডিজেলের মজুত পাওয়া যায়। বিপুল পরিমাণ এই জ্বালানি কেন মজুত রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে ট্যাগ অফিসার কিংবা পাম্প মালিক আব্দুল বারিক কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দুর্নীতিবাজ এই পাম্প মালিক দিনের বেলা ‘তেল নেই’ বলে সাধারণ মানুষকে ফিরিয়ে দিলেও রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বেশি দামে তেল বিক্রি করে আসছিলেন।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মানজুরা মুশাররফ বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য ট্যাগ অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।