বাংলাদেশ, শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬

পুঠিয়ায় বাসের ধাক্কায় তিন প্রাণহানির ঘটনায় বাস চালক গ্রেপ্তার

NewsPaper

পুঠিয়া(রাজশাহী)প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ০৪:২৫ অপরাহ্ণ

পুঠিয়ায় বাসের ধাক্কায় তিন প্রাণহানির ঘটনায় বাস চালক গ্রেপ্তার

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর থানা এলাকার পোল্লাপুকুরে বাসের ধাক্কায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহতের ঘটনায় ঘাতক বাস চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার পর গুজব ছড়িয়ে পুলিশকে হেনস্থা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনায় মূল হোতাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী রাজকীয় পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পুঠিয়াগামী একটি অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিপল ই বিভাগের ছাত্র শান্ত ইসলামসহ তিনজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দুর্ঘটনার পর বাস চালক দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে একটি মহল গুজব ছড়ায় যে পুলিশ ঘাতক বাস চালককে ছেড়ে দিয়েছে। পুলিশ জানায়, এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। গুজবের জেরে উত্তেজিত ছাত্র-জনতা ভিকটিমদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করতে বাধা দেয়। এ সময় বেলপুকুর থানার ওসি ও একজন উপপরিদর্শককে (এসআই) জিম্মি করে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয়। এমনকি এক পুলিশ সদস্যকে কান ধরতে বাধ্য করে তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরজুন জানান, এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর থেকেই পলাতক বাস চালককে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের একাধিক টিম সমন্বিতভাবে অভিযান চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানা এলাকা থেকে ঘাতক বাস চালক সাইফুল ইসলাম (৪৮)কে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি নাটোর সদর উপজেলার কানাইখালী গ্রামের দক্ষিণ পটুয়াপাড়ার দিয়ানতুল্লাহ প্রামাণিকের ছেলে। গ্রেপ্তারকৃত চালককে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়।

উল্লেখ্য, পুলিশ ঘটনার দিন রাতেই রাজকীয় পরিবহনের ঘাতক বাসটি আটক করে।

অপরদিকে পুলিশের কাজে বাধা প্রদান মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পৃথক অভিযান চালিয়ে গত সোমবার বিকেলে গুজব ছড়িয়ে পুলিশকে হেনস্থা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মূল হোতা বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হাসানুর রহমান তুহিন (২৬)কে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তিনি রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানার বড় বনগ্রাম চকপাড়া এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে।