সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ঢাকা
ফন্টসাইজ A- A A+
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষা

রাবি শিক্ষক সুজন সেনের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি, শিক্ষার্থীদের ক্লাশ-পরীক্ষা বর্জন

রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯-১০-২০২৬, ০৫:১৬ PM
০ বার পঠিত
রাবি শিক্ষক সুজন সেনের স্থায়ী বহিষ্কার দাবি, শিক্ষার্থীদের ক্লাশ-পরীক্ষা বর্জন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের পদাবনতি ও অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক ড. সুজন সেনের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে ক্লাশ ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন চারুকলা অনুষদের ছাপচিত্র ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ভবনে ছাপচিত্র ডিসিপ্লিনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান।

অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ‘বিচারের নামে প্রহসন, মানি না মানব না’, ‘এক দফা এক দাবি, সুজন তুই কবে যাবি’, ‘অভিযোগ প্রমাণিত, শাস্তি কেন সীমিত’ ও ‘সুজনের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষক সুজন সেনের বিরুদ্ধে অযোগ্যতা, দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে তৎকালীন উপাচার্য, ছাত্র উপদেষ্টা ও বিভাগীয় সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন শিক্ষার্থীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চলতি বছরের ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত ৫৪৮তম সিন্ডিকেট সভায় সুজন সেনকে সহযোগী অধ্যাপক থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদাবনতি এবং পাঁচ বছরের জন্য একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

কর্মসূচিতে ছাপচিত্র ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী আছিয়া খাতুন বলেন, দীর্ঘ দুই বছর ধরে আমাদের বিভাগের শিক্ষক ড. সুজন সেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, শিক্ষার্থী হয়রানি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ জানিয়ে আমরা ২শ পৃষ্ঠার একটি অভিযোগপত্র জমা দিয়েছিলাম। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত সিন্ডিকেটে  প্রশাসন তাকে পদাবনতি দিয়ে পাঁচ বছরের জন্য অব্যাহতি দিয়েছে, যা নামমাত্র শাস্তি। এর ফলে তিনি পাঁচ বছর বসে বসেই বেতন-ভাতা পাবেন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধান অনুযায়ী কোনো শিক্ষকের নৈতিক স্খলন ঘটলে তাকে চাকরিচ্যুত করার নিয়ম রয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনেও সুজন সেনের আচরণকে নৈতিক স্খলন হিসেবে উল্লেখ করে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ করা হয়েছিল; কিন্তু সিন্ডিকেটে তা না করে কেবল পদাবনতি ও পাঁচ বছরের অব্যাহতি দেওয়া হয়। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনকে তার স্থায়ী বহিষ্কারের স্পষ্ট রূপরেখা দিতে হবে। অন্যথায় আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।

একই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সারোয়ার জাহান বলেন, একজন দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষকের শাস্তি এত কম কিভাবে হয়, তা নিয়ে আমরা সন্দিহান। আমাদের দাবি দুটি তার বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, এটা যেহেতু সিন্ডিকেটের বিষয়, সেখানে হয়তো তার বিষয়টি দেখতে পারে। তবে আমরা বিভাগের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করব। এছাড়া ক্লাশ-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়াটা দৃষ্টিকটু। তাদের যেকোনো দাবিতে তারা আন্দোলন করুক কিন্তু সেটা যেন ক্লাশ-পরীক্ষা বর্জন না করে।

শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, প্রথমত সিন্ডিকেট তাকে কোনো শাস্তি দেয়নি। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ সিন্ডিকেটের সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত সিন্ডিকেট সভায় কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে, সেই সিদ্ধান্তের রিভিউয়ের জন্য পরবর্তী সিন্ডিকেট সভা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে কোনো সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। আমরা পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় তাদের দাবিটি এজেন্ডায় দেব। সভায় সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


লিংক কপি হয়েছে