মহাসড়ক ব্যবহারকারীরা বলছেন, নিম্নমানের কাজ ও ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহণের কারণে অল্প দিনেই সড়কে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘন ঘন দুর্ঘটনার পাশাপাশি গন্তব্যে যেতে কয়েক গুণ বেশি সময় লাগছে। অনেক সময় গর্তে চাকা পড়ে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্রুত টেকসই সংস্কার চান সড়ক ব্যবহারকারীরা।
সরেজমিন মহাসড়কের কান্দিলা, ঘারিন্দাসহ বিভিন্ন এলাকায় খানাখন্দ দেখা যায়। সকালে কাজ করলেও বৃষ্টির কারণে বিকালে আবার গর্তের সৃষ্টি হয়। এদিকে মির্জাপুর বাইপাস থেকে গোড়াই পর্যন্ত অন্তত পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় মূল সড়ক ২-৩ ইঞ্চি করে দেবে গেছে।
বাসচালক আরিফ মিয়া বলেন, চন্দ্রা থেকে কালিহাতীর এলেঙ্গা পর্যন্ত আগে ৮০ থেকে ৮৫ কিলোমিটার বেগে আসতে পারতাম। এখন ভাঙাচোরা ও গর্তের কারণে ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এতে সময় বেশি লাগার পাশাপাশি গরমে ভোগান্তি পোহাতে হয়।
ট্রাক চালক হান্নান শেখ বলেন, বেহাল সড়কে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ের লক ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটছে। আবার সড়কে পাথর বের হওয়ায় চাকাও ফুটে যাচ্ছে। প্রতিনিয়ত গাড়ির কাজ করাতে হচ্ছে। এই মহাসড়কটি সুবিধার চেয়ে বেশি ভোগান্তি দিচ্ছে।
জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রতিদিন ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে অন্তত ৩০ হাজার যানবাহন চলাচল করছে। খানখন্দের কারণে দুর্ঘটনা বেড়ে চলেছে। সড়ক বিভাগ, জেলা আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কমিটির সভায় একাধিকবার আলোচনা করেও কোনো সুরাহা হয়নি। দ্রুত সড়কটি সংস্কার হলে আমাদের শ্রমিক ও যাত্রীদের জন্য ভালো হয়।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমেরী খান বলেন, আব্দুল মোনেম লিমিটেড, ডিয়েনকো ও মীর আক্তার নামের তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কটি নির্মাণে কাজ করেছে। গত দেড় বছরে আব্দুল মোনেম লিমিটেডকে সড়ক সংস্কারের জন্য কোনো বিল দেওয়া হয়নি। সড়কটি সংস্কারের জন্য ঠিকাদারকে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। দেবে যাওয়া অংশ দ্রুত মেরামত না করলে আব্দুল বিরুদ্ধে আর্থিক দণ্ডসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।