ছয় সিটি করপোরেশনে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়ে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দলীয় পদধারীদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি এবং এটি নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ।
সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, খুলনা, রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মেয়রের দায়িত্ব দিয়ে ছয়জন দলীয় নেতাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নবগঠিত বিএনপি সরকার শুরুতেই জনআকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় সরকার আইন সংশোধন করে গত বছরের আগস্টে জারি করা অধ্যাদেশের মাধ্যমে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করা হয়। পৃথক অধ্যাদেশে সরকারকে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়। ওই ক্ষমতাবলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
জামায়াতের দাবি, জুলাই আন্দোলনের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, গণহত্যার বিচার এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার। এর ধারাবাহিকতায় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন হয়েছে। এখন জনগণের প্রত্যাশা ছিল গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হবে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।
তবে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে বলে দাবি করেন গোলাম পরওয়ার। তার ভাষায়, সিটি করপোরেশনে সরকারদলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ নৈতিকভাবে গর্হিত এবং জনগণের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা। এটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করার গভীর ষড়যন্ত্র এবং আরেকটি ‘পাতানো নির্বাচনের’ প্রাথমিক ধাপ হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
দ্রুত সময়সূচি ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।