বাংলাদেশ, শনিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টাকে জামায়াতের অনুরোধ জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে

NewsPaper

স্বদেশ বানী ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট, ২০২৫, ০৭:৫৫ অপরাহ্ণ

প্রধান উপদেষ্টাকে জামায়াতের অনুরোধ জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নিতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অনুরোধ করেছে জামায়াতে ইসলামী। রোববার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দলটির নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা– জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, নুরের ওপর হামলার ঘটনা অনেক গভীরে। এর রুটে গিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে জাতীয় পার্টি কাজ করেছে। সুতরাং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যে ব্যবস্থা নিয়েছেন, জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’

নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চাওয়ার কথা জানিয়ে এই জামায়াত নেতা বলেন, ‘ঐকমত্যের কিছু বিষয়ে বাধা আসছে। একটি দল বলছে, নির্বাচিত সরকার এসে বাস্তবায়ন করবে। তাহলে আমরা এত আলোচনা করলাম কেন? নির্বাচনের আগেই রিফর্ম বাস্তবায়ন হবে, এটাই চাওয়া। চার্টারের তিনটি অংশ। ঐকমত্যে পৌঁছানো, আইনি ভিত্তি দেওয়া এবং বাস্তবায়ন। কিন্তু কিছু দল আইনি ভিত্তি ও বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছে। আমরা বলেছি, আইনি ভিত্তির মাধ্যমে যেন এখনই বাস্তবায়ন করা হয়।’

আগামী নির্বাচন ঘিরে আশঙ্কার কথা তুলে ধরে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আমরা একটি নীলনকশার নির্বাচনে যাচ্ছি কিনা, এই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একটি দলের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণায় প্রধান উপদেষ্টার নিরপেক্ষতা বিঘ্নিত হয়েছে। জুলাই ঘোষণাও সকলের সঙ্গে আলোচনা করে হয়নি। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা আমাদের কাছে মনে হয়েছে, চাপে পড়ে হয়েছে কিনা। সরকারের উচিত ছিল, জুলাই সনদের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসার পর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা। তারিখের বিষয়ে দ্বিধা নেই।’

আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘নির্বাচন একটি পারসেপশনের বিষয়। আজকেও তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) বলেছেন, জুলাই চার্টার হতে হবে। কিন্তু এটা না করে নির্বাচন হবে ভুল সিদ্ধান্ত। সব মেজর দল কিন্তু আমরা এক জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। বৈষম্য তৈরি হয়েছে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হয়েছে। নির্বাচনের আগে ঠিক করতে হবে। আমরা ৩১টি দল রিফর্মে ছিলাম। এর মধ্যে ২৫ টিই পিআর চায়। বাম ও ইসলামপন্থী দলও পিআর চায়। নুরের দল, এবি পার্টি পিআর চায়। বেশিরভাগ দল চাচ্ছে, তারা বেশিরভাগ মানুষকে প্রতিনিধিত্ব করছে। কিছু পার্থক্য আছে, কেউ আপার হাউজ চায়। আমরা দুটোতেই চাই।’

নতুন নিয়মে নির্বাচনের দাবি তুলে তিনি বলেন, ‘নতুন সিস্টেমে নির্বাচন দরকার, নাহলে কেন্দ্র দখলে নির্বাচন হবে। এটাকে থামাতে নতুন পদ্ধতি দরকার। কেন্দ্র দখল বা কালো টাকার বাড়াবাড়ি হবে না। নতুন প্রস্তাব আনতে হবে। আলোচনা হতে হবে। সিদ্ধান্ত হতে হবে। আমাদের অবজ্ঞা করে একটি দলের চাপে নির্বাচন হলে আমাদের অংশগ্রহণ কঠিন হবে। নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চাই কিন্তু সকলের সম্মতি ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে উৎসবমুখর নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।’

এ সময় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার নিন্দা জানান তিনি। আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘সরকার হাত গুটিয়ে নিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। কঠোর ও শক্তিশালী কমান্ড করতে হবে। নির্বাচন তো করতে হবে। যে সব সাম্রাজ্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের দালাল প্রশাসন ও পুলিশে আছে তাদের সরাতে হবে এবং নিরপেক্ষদের নিতে হবে। উনি (প্রধান উপদেষ্টা) শুনেছেন এবং ভূমিকা পালন করবেন বলে জানিয়েছেন।’

পিআর পদ্ধতিতে ভোটের বিষয়ে গণভোট আয়োজনের জন্য প্রধান উপদেষ্টাকে আহ্বান জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।