মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ঢাকা
ফন্টসাইজ A- A A+
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
উত্তরাঞ্চলের খবর

পদ্মার চরে ‘অপারেশন ফাস্ট লাইট’

কাকন বাহিনীর ২১ সদস্য গ্রেফতার, পাঁচটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২০-১০-২০২৬, ০৪:০৯ AM
০ বার পঠিত
কাকন বাহিনীর ২১ সদস্য গ্রেফতার, পাঁচটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার

রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়ার পদ্মার চরাঞ্চলে দাপিয়ে বেড়ানো ‘কাকন বাহিনী’র ২১ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রবিবার (৯ নভেম্বর) ভোররাত থেকে রাজশাহীর বাঘা, পাবনার আমিনপুর ও ঈশ্বরদী এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের বিভিন্ন চরাঞ্চলে একযোগে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় পাঁচটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ দেশি অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহজাহান অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘কাকন বাহিনী’ দমনে পুলিশ, র‌্যাব ও এপিবিএন সদস্যদের নিয়ে যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ফাস্ট লাইট’। এতে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ টিমের ১ হাজার ২০০ সদস্য অংশ নিচ্ছেন।

ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান আরও জানান, অভিযান চলাকালে পাঁচটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, দেশি অস্ত্র, মাদক ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে কাকন বাহিনীর ২১ সদস্যকে।

অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী ধানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুন নূর। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার জানিয়েছেন, অভিযানে চরের বিভিন্ন ঝোপঝাড় ও পরিত্যক্ত ঘাঁটি থেকে দুটি শুটারগান, চাইনিজ কুড়াল, বেশ কিছু দেশি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

জানা গেছে, পাবনার ঈশ্বরদী, সুজানগর উপজেলার নাজিরগঞ্জ, কুষ্টিয়া, নাটোরের লালপুর ও রাজশাহীর বাঘা-চারঘাটে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে পদ্মা নদীর চর দখল, অবৈধ উপায়ে বালু উত্তোলনকারী হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত রোকনুজ্জামান কাকন ওরফে ‘ইঞ্জিনিয়ার কাকন’। ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীতে আধিপত্য বিস্তার করতে সে বারবার গুলি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করায় ঈশ্বরদীতে দফায় দফায় নদীতে আতঙ্ক বিরাজ করছিল। বালু ব্যবসা নিয়ন্ত্রনে নিতে অবৈধ অস্ত্রের মহড়া, প্রকাশ্যে গুলি, কথায় কথায় গুলি করে মানুষ হত্যাসহ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে এই কাকন। সে ঈশ্বরদীতেও গড়ে তুলেছে ‘কাকন বাহিনী’।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাকন বাহিনী বিগত কয়েক বছর ধরে চরে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মুক্তিপণ আদায়, বালু লুট এবং কৃষকদের ফসল লুট করে আসছিল। এই বাহিনীর অপকর্মের প্রতিবাদ করলে কথায় কথায় বন্দুক উঁচিয়ে গুলি চালাতো তারা।

এর আগে গত ২৭ অক্টোবর কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, রাজশাহীর বাঘা ও নাটোরের লালপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী মরিচা ইউনিয়নের চৌদ্দহাজার মৌজার নিচ খানপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় তিন জন নিহত হন। পরে বাহিনীপ্রধান হাসিনুজ্জামান কাকনসহ বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা হয়।

এ ছাড়া রাজশাহী, নাটোর, পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলায় কাকন বাহিনীর বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে।

পদ্মার চরে ‘অপারেশন ফাস্ট লাইট’ অভিযানের আগের দিন শনিবার (৮ নভেম্বর) রাতে কুষ্টিয়া জেলার দৌলুতপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সোলাইমান জানিয়েছেন, এই মামলায় পদ্মার চরে অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি কাঁকন বাহিনীর সদস্য বলে জানা গেছে।

 

লিংক কপি হয়েছে