বাংলাদেশ, শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ

NewsPaper

স্বদেশ বানী ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন ও দেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গুরুতর অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা ও গণমাধ্যমগুলো তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, নেতৃত্ব ও বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার প্রভাব তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার সকালে ইন্তেকাল করেন। বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ সকাল ৬টায় ফজরের নামাজের পর ইন্তেকাল করেছেন। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা করছি।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)

এপি তাদের প্রতিবেদনে জানায়, দীর্ঘদিন অসুস্থতার পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে গেছেন বেগম খালেদা জিয়া। তার বিরুদ্ধে আনা মামলাগুলোকে তিনি ও তার দল বরাবরই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছিল।

এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট তাকে সর্বশেষ দুর্নীতি মামলা থেকে খালাস দেয়। এতে করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথে তার সব আইনি বাধা দূর হয়েছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগের সরকারের সময় একাধিকবার তার বিদেশে চিকিৎসার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও অন্তর্বর্তী সরকার চলতি বছরের জানুয়ারিতে তাঁকে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেয়। উন্নত চিকিৎসা শেষে তিনি মে মাসে যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফেরেন।

আল জাজিরা

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি লিভার সিরোসিস, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, হৃদরোগসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর ফুসফুসের সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে নিউমোনিয়াসহ শারীরিক জটিলতা বেড়ে গেলে তাকে সিসিইউ ও আইসিইউতে রাখা হয়। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছিল।

রাজনৈতিক জীবন ও অবদান

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর। ১৯৮১ সালে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং ৯০-এর দশকে সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার পতনের পর ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০০১ সালে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, তার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি যুগের অবসান। তিনি শুধু একটি দলের প্রধানই ছিলেন না, বরং সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সারাদেশে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল, গুলশানে তার বাসভবন ও নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শোকাহত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভিড় দেখা গেছে।

দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই নেত্রীর প্রয়াণে দেশ-বিদেশে অসংখ্য মানুষ শোক প্রকাশ করছেন।