বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ঢাকা
ফন্টসাইজ A- A A+
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
logo

মেয়েদের নাম ‘জান্নাত’ রাখা নিয়ে ইসলাম কী বলে?


স্বদেশ বানী ডেস্ক published:  ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম

মেয়েদের নাম ‘জান্নাত’ রাখা নিয়ে ইসলাম কী বলে?

প্রশ্ন: আমাদের দেশে অনেক মেয়ের নাম রাখা হয় ‘জান্নাত’। কিন্তু আমি শুনেছি জান্নাতের নামে মানুষের নামকরণ করা নিষিদ্ধ। প্রশ্ন হলো, মেয়েদের নাম ‘জান্নাত’ রাখা কি জায়েজ?

উত্তর: আরবি ‘জান্নাত’ শব্দের আভিধানিক অর্থ বাগিচা, উদ্যান। ‘জান্নাত’ যেহেতু উত্তম অর্থবোধক একটি শব্দ, তাই এটি কোনো মেয়ের নাম হিসেবে রাখা যেতে পারে। জান্নাতের নামে মানুষের নামকরণ নিষিদ্ধ আপনার শোনা এই তথ্যও সঠিক নয়। পুরুষদের নাম বিভিন্ন জান্নাতের নামে যেমন নাঈম, ফেরদৌস ইত্যাদি রাখা যেতে পারে। মেয়েদের নামও ‘জান্নাত’ ‘জান্নাতুল ফেরদৌস’ ‘জান্নাতুন নাঈম’ ইত্যাদি রাখা যেতে পারে।

শিশুর প্রতি বাবা-মায়ের একটি কর্তব্য হল তার সুন্দর অর্থবোধক নাম রাখা। আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, বাবার ওপর সন্তানের অধিকার হচ্ছে, সে তার উত্তম নাম রাখবে, তাকে ভালো স্থানে রাখবে এবং তাকে উত্তম আদব শিক্ষা দেবে। (শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকি)

তাই এ বিষয়ে অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। এখানে আমরা শিশুর নামকরণের ব্যাপারে মহানবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছু পরামর্শ বা দিক-নির্দেশনা উল্লেখ করছি।

১. নামের অর্থ যেন সুন্দর হয়

শিশুর নাম হতে হবে সুন্দর ও উত্তম অর্থবোধক। নামের প্রভাব মানুষের ওপর পড়ে। তাই কোনো অনর্থক বা খারাপ অর্থবোধক শব্দ নাম হিসেবে নির্বাচন করা যাবে না। সুন্দর নামকরণের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, কেয়ামতের দিন আপনাদেরকে আপনাদের নাম এবং বাবার নাম ধরে ডাকা হবে, তাই আপনারা সুন্দর নাম রাখুন। (সুনানে আবু দাউদ)

কারো নামের অর্থ অসুন্দর হলে আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা পরিবর্তন করে রাখতেন। বর্ণিত রয়েছে, এক নারী সাহাবির নাম ছিল আসিয়া বা অবাধ্য, রাসুল (সা.) তার নাম পরিবর্তন করে রেখেছিলেন জামিলা বা রূপবতী। (সুনানে আবু দাউদ)

২. আল্লাহর নামের সঙ্গে ‘আবদ’ যুক্ত করে নাম রাখুন

আল্লাহর অনেক সুন্দর গুণবাচক নাম রয়েছে। ওই নামগুলোর সাথে ‘আবদ’ যুক্ত করে নাম রাখা যায়। হাদিসে মহানবী (সা.) এ রকম নামকে আল্লাহর প্রিয় উল্লেখ করে এ রকম নাম রাখতে উদ্বুদ্ধ করেছেন। মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম ‘আবদুল্লাহ’ ও ‘আবদুর রহমান’। (সহিহ মুসলিম)

মহানবী (সা.) নিজের দ্বিতীয় ছেলের নাম রেখেছিলেন ‘আব্দুল্লাহ’। আল্লাহর রাসুলের (সা.) পরামর্শ অনুসরণ করে অনেক সাহাবিও তাদের সন্তানদের নাম ‘আব্দুল্লাহ’ ও ‘আব্দুর রহমান’ রেখেছিলেন।

৩. নবীদের নামের সঙ্গে মিলিয়ে নাম রাখুন

আল্লাহর নবীদের নামের সঙ্গে মিলিয়ে শিশুর নামকরণ করা যায়। মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আপনারা নবীদের নামে নামকরণ করুন। (মুসনাদে আহমাদ)

মহানবী (সা.) তার তৃতীয় ছেলের নাম রেখেছিলেন ‘ইবরাহিম’। ইবরাহিমের জন্মের পর দিন তিনি সাহাবিদের বলেন, গত রাতে আমার একটি ছেলে হয়েছে, আমি তার নাম আমার বাবা ইবরাহিমের নামে রেখেছি। (সহিহ মুসলিম)

৪. উত্তম কোনো ব্যক্তির নামের সঙ্গে মিলিয়ে নাম রাখা

সাহাবি-তাবেঈ বা কোনো নেককার বুযুর্গের নামের সঙ্গে মিলিয়েও নাম রাখা যেতে পারে। এক হাদিসে উত্তম ব্যক্তিদের নামে নাম রাখতে উদ্বুদ্ধ করে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আমি তাদের (হাসান, হুসাইন ও মুহাসসিনের) নাম রেখেছি হজরত হারুনের (আ.) সন্তানদের নামের সঙ্গে মিলিয়ে। (মুসনাদে আহমদ: ৯৫৩)

মহানবীর (সা.) এই পরামর্শগুলো আমাদের শিশুদের জন্য উত্তম ও সুন্দর নাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে ইনশাআল্লাহ।

এসবি/এইচ