মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ঢাকা
ফন্টসাইজ A- A A+
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
logo

চালক সংকটে অব্যবহৃত পড়ে আছে সরকারি হাসপাতালগুলোর অ্যাম্বুলেন্স


NewsPaper   published:  ০৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪০ এএম

চালক সংকটে অব্যবহৃত পড়ে আছে সরকারি হাসপাতালগুলোর অ্যাম্বুলেন্স

রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালগুলোতে অ্যাম্বুলেন্স চালকের পদ থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে চালক সংকটে বন্ধ রয়েছে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে রোগীরা। বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের সেবা নিতে হচ্ছে রোগীদের।

রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতাল জেলার সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এখানে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে ৪টি, কিন্তু চালক আছেন মাত্র একজন। চাল‌কের পদ দু‌টি। দুই বছর আগে একজন চালক অবসরে গেছেন, তারপর থেকে একাই সামলাচ্ছেন সব।

সরেজমিনে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, তিনটি অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতা‌লের নতুন ভব‌নের গ্যারেজে পড়ে আছে। একটির টায়ার সম্পূর্ণ বসে গেছে, গায়ে জমেছে ধুলোবালি। নতুন ভবনের সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে আ‌ছে। বোঝা যায় সে‌টি‌তেই রোগী প‌রিবহন ক‌রে।

রাজবাড়ী শহরের বেড়াডাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত ২০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রেও রয়েছে একটি অ্যাম্বুলেন্স। ২০২৩ সালে চালক অবসরে যাওয়ার পর থেকে সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে গ্যারেজে। যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে, কিন্তু নিয়োগ মিলছে না নতুন চালকের।

সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় টায়ার বসে গেছে, সারা গায়ে ধুলোবালি আর মাকড়সার জাল। এক নজর দেখলেই বোঝা যায়, সংস্কার ছাড়া এই অ্যাম্বুলেন্সে রোগী বহনের কোনো সুযোগ নেই।

একই করুণ চিত্র ৫০ শয্যা বিশিষ্ট পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একটি মাত্র অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। চালকও ছিলেন একজন। ত‌বে চালক তিন বছর আগে অবসরে যাওয়ার পর থেকে গাড়িটি গ্যারেজেই পড়ে আছে। ফলে পাংশা উপজেলার রোগীদের এখন সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করতে হচ্ছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর। তাদেরকে বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিতে হচ্ছে।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স চালক মাসুদ বলেন, আমি একা সব রোগী বহন করতে পারি না। কোনো রোগী নিয়ে ঢাকা গেলে যাওয়া-আসা মিলিয়ে ৮ ঘণ্টা লেগে যায়। ফিরে এসেই আবার রোগী বহন সম্ভব হয় না। আগে দুজন চালক ছিলাম, তখন সুবিধা ছিল। এখন একা হয়ে অনেক সমস্যা হচ্ছে।

পাংশার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান শোভন নামের এক ব্যক্তি বলেন, আমার সহধর্মিণীর সিজারের পর আমার নবাগত সন্তান অসুস্থ হয়ে যায়। পরে তাকে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর নিয়ে যাওয়ার সময় সরকারি কোন অ্যাম্বুলেন্স পাইনি। তাই তিনগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স নিতে হয়েছিলো।

রাজবাড়ী শহরের বাসিন্দা মো.সাখাওয়াত হোসেন বলেন, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ৪ টি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালকের অভাবে মাত্র একটি দিয়ে সেবা দেওয়া হয়। ফলে সচল থাকা অ্যাম্বুলেন্স রোগী নিয়ে দূরে কোথাও গেলে অন্যা রোগীরা তখন অ্যাম্বুলেন্সের সেবা পাই না। ফলে তাদের বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হয়।

রাজবাড়ীর মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, এখানে যারা চিকিৎসা নিতে আসে অধিকাংশই গরিব ও নিম্ন শ্রেণির মানুষ। ফলে তাদের পক্ষে বেশি ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা সম্ভব না।

রাজবাড়ী নাগরিক কমিটির সভাপতি জ্যোতিশংকর ঝন্টু বলেন, অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে, অথচ চালকের অভাবে সেটি নষ্ট হচ্ছে। আর রোগীদের তিনগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে বেসরকারি গাড়িতে যেতে হচ্ছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের অবশ্যই দেখা উচিত।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, সদর হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে চারটি, কিন্তু চালকের পদ মাত্র দুটি। একজন অবসরে গেছেন। একজন চালকের পক্ষে চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। তিনজন চালক হলে ভালো হতো। বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা. এস. এম. মাসুদ বলেন, শুধু অ্যাম্বুলেন্সের চালক নয়, অনেক কিছুরই সংকট রয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি।