তানোর প্রতিনিধি published: ০৮ অক্টোবর, ২০২৫, ০৩:০১ পিএম

রাজশাহীর তানোরের মুন্ডুমালা পৌর সদরে অবস্থিত দি পদ্মা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল চিকিৎসায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় নবজাতকের পিতা আব্দুর রাজ্জাক (২৪) বাদী হয়ে তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, চিকিৎসার নামে প্রতারণা, দালালের প্ররোচনা ও ভুল ইনজেকশন পুশের ফলে নবজাতক মারা গেছে।
এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার (৪ অক্টোবর) সকালে মুন্ডুমালা পৌর এলাকার ভাটার মোড় মহল্লায় অবস্থিত মুন্ডুমালা দি পদ্মা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। তবে ঘটনার ৫দিন অতিবাহিত হলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি থানা পুলিশ।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওইদিন সকালে প্রসববেদনা উঠলে রাজ্জাকের স্ত্রী সোহানা বেগমকে স্থানীয় এক দালালের পরামর্শে উক্ত ক্লিনিকে ভর্তি করানো হয়। ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার পর কথিত মালিক শাহজামাল বাবু প্রথমেই রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষার কথা বলে ২ হাজার ৪০০ টাকা নেন। পরে চিকিৎসক মোস্তাক আহম্মেদ ফয়সাল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।
কিন্তু নবজাতকের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিৎসক অক্সিজেন দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী ক্লিনিকের মালিক বাবু নিজেই নবজাতকের পায়ে ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন প্রয়োগের পরপরই নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। এক পর্যায়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সমস্যার অযুহাত দেখিয়ে জোরপূর্বক শিশুটিকে রাজশাহী নিয়ে যেতে বাধ্য করেন। কিন্তু রাজশাহী যাওয়ার পথেই নবজাতকের মৃত্যু হয়ে যায়।
এ ঘটনায় বাকরদ্ধ পিতা আব্দুর রাজ্জাক তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তিনি বলেন, ভুল চিকিৎসার কারণে তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। তিনি কথিত ক্লিনিক মালিকে সুষ্ঠু বিচার দাবি জানিয়েছেন।
সরকারি বিধি অনুযায়ী ১০ শয্যার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সার্বক্ষণিক একজন এমবিবিএস চিকিৎসক ও প্রশিক্ষিত সেবিকা থাকা বাধ্যতা মূলক। কিন্তু দি পদ্মা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এসব নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে নিজেই সিজারিয়ান অপারেশনের মতো চিকিৎসা পরিচালনা করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে বলে স্থানীয়দেরও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ক্লিনিকের পরিচালক শাহজামাল বাবু সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর বলেন, কালকে সরাসরি এসে ক্লিনিকে দেখা করেন তখন সাক্ষাতে কথা হবে বলে ফোনের সংযোগ কেটে দেন।
রাজশাহী জেলা সিভিল সার্জন বলেন, এ বিষয়ে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আফজাল হোসেন বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।