বাংলাদেশ, রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬
logo

ইসরায়েলের আলটিমেটাম: গাজা ছাড়তে হবে না হলে সন্ত্রাসী হিসেবে গণ্য


স্বদেশ বানী ডেস্ক published:  ০৩ অক্টোবর, ২০২৫, ১০:০৯ এএম

ইসরায়েলের আলটিমেটাম: গাজা ছাড়তে হবে না হলে সন্ত্রাসী হিসেবে গণ্য

ফিলিস্তিনের গাজা শহর খালি করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইসরায়েল নতুন করে আক্রমণ শুরু করেছে। তারা সব ফিলিস্তিনিকে শহর ত্যাগ করে অন্যত্র যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে তাদের হামাসের অংশীদার বা সন্ত্রাসী হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং সামরিক বাহিনী পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করবে।

গত বৃহস্পতিবার গাজা ভূখণ্ডে অন্তত ৩৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছিলেন, দক্ষিণে চলে যাওয়াই বাসিন্দাদের শেষ সুযোগ। যারা গাজায় অবস্থান করবে, তাদের সন্ত্রাসী হিসেবে গণ্য করা হবে।

হামাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এপিকে জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে এটি গ্রহণযোগ্য নয় এবং সংশোধনের প্রয়োজন আছে। তারা অন্যান্য ফিলিস্তিনি দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে।

এখন পর্যন্ত প্রায় চার লাখ ফিলিস্তিনি গাজা ছেড়ে পালিয়েছে, তবে লাখ লাখ বাসিন্দা এখনও শহর ছেড়ে যেতে পারেনি। অনেকের বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার সামর্থ্য নেই, আবার কেউ কেউ দক্ষিণে তাঁবু শিবিরে যেতে ভয় পাচ্ছে। বাস্তুচ্যুতরা প্রতিদিন রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার কয়েক ঘণ্টা ধরে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ও কামান দক্ষিণ ও পশ্চিম গাজার বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানে। দক্ষিণ গাজার আল-সাব্রা ও খান ইউনিসে হামলা হয়, পশ্চিম গাজার আল-নাসর ও মধ্য গাজার মাগাজি ক্যাম্পেও কামানের গোলা পড়ে।

গাজার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা হুসেইন আল দেল বলেন, “ইসরায়েলিরা কারও প্রতি দয়া না দেখিয়েই হামলা চালাচ্ছে। আমরা খাবার, আসবাব, কম্বল—সবই ফেলে এসেছি। শুধু আমাদের জীবন নিয়ে চলে এসেছি।”

গত ২৪ মাসে ইসরায়েলি হামলায় ৬৬,১৪৮ জন নিহত এবং ১,৬৮,৭১৬ জন আহত হয়েছে। আরও হাজার হাজার মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মানবিক সাহায্য ও পরিস্থিতি

রেড ক্রসের আন্তর্জাতিক কমিটি গাজা শহরে কার্যক্রম স্থগিত করেছে। তারা সতর্ক করে বলেছে, হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্সও গাজায় কার্যক্রম বন্ধ করেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় ১৮৯ জন সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মী নিহত হয়েছেন।

ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব পর্যবেক্ষণ করছে হামাস। তারা মধ্যস্থতাকারী মিসর ও কাতারের কাছে আরও সময় চেয়েছে। মিসর ও কাতার দুদেশই জানিয়েছেন, প্রস্তাবে কিছু বিষয়ের ওপর আরও আলোচনা প্রয়োজন। সোমবার হোয়াইট হাউস ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল।