নিজস্ব প্রতিবেদন published: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১২:১৩ পিএম

কেউ মারা গেলে ৪০ দিনের মাথায় করা হয় ‘চল্লিশা’। কোনো কোনো এলাকায় এ অনুষ্ঠান ‘ফয়তা’ নামেও পরিচিত। সেখানে সমাজের মানুষ আমন্ত্রিত হন। দুপুরের খাবার খান। রাজশাহীর পবা উপজেলার বামনশিকড় গ্রামের রুস্তম আলী শনিবার এমন আয়োজন করেছেন লাখ টাকা ধার করে। চল্লিশা অনুষ্ঠানে তিনি খাইয়েছেন প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষকে।
অথচ ‘ঋণের দায়ে ও খাওয়ার অভাবে’ রুস্তম আলীর ছেলে মিনারুল ইসলাম (৩৫) তার স্ত্রী মনিরা খাতুন (৩০), ছেলে মাহিম (১৪) ও মেয়ে মিথিলাকে (৩) হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেন। গত ১৪ আগস্ট দিবাগত রাতে রুস্তমের বাড়িতে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।
মৃত্যুর আগে মিনারুল চিরকুটে লিখে গিয়েছেন, ‘আমরা মরে গেলাম ঋণের দায়ে আর খাওয়ার অভাবে।’ সেই মিনারুল এবং তার স্ত্রী সন্তানদের চল্লিশার আয়োজন করা হয় শনিবার।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাঈদ আলী মুর্শেদ বলেন, ‘ইসলামের দৃষ্টিতে এটা নাই। কিন্তু কেউ মারা গেলে এটা করতে হয়। এটা আমাদের এলাকার একটা প্রথা।’
দুপুরে বামনশিকড় গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ভ্যানে চড়ে দূরের গ্রাম থেকে আসছেন আত্মীয়-স্বজনেরা। আসছেন পুরো গ্রামের মানুষও। রুস্তম আলীর বাড়ির সামনে ও পেছনে দুটি প্যান্ডেল করা হয়েছে। প্যান্ডেলে বসে তারা খাচ্ছেন। ভাতের সঙ্গে ছিল ডাল ও মুড়িঘণ্ট। রুস্তম আলী ঘুরে ঘুরে সবকিছু দেখছিলেন। এর এক ফাঁকেই কথা হয় তাঁর সঙ্গে।
রুস্তম আলী বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানকে কেউ চল্লিশা বলে। কেউ বলে ফয়তা। সমাজের মানুষকে নিয়ে এটা করতে হয়। বাপ-দাদার আমল থেকেই দেখে আসছি। আমিও মনের আবেগে করলাম। যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী করে। আমি গরিব মানুষ, মাংস করতে পারিনি। মাছ দিয়ে মুড়িঘণ্ট আর ডাল করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আশপাশের মানুষজন বলছিল চারজনের মরার কারণে বাড়ি ভারি ভারি লাগছিল। ছোট ছিলেপিলেরা ভয় পাচ্ছিল। অনুষ্ঠানটা করলাম যাতে ভয় ভাঙে। বাড়ি যেন পাতলা হয়। এ কারণে দুপুরে দোয়া হয়েছে। তারপর খাওয়া-দাওয়া। প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হলো। আত্মীয়-স্বজন ও সমাজের মিলিয়ে ১ হাজার ২০০ মানুষের আয়োজন করা হয়েছিল।’
টাকা জোগাড় হলো কীভাবে জানতে চাইলে রুস্তম আলী বললেন, ‘সবই ধার-দেনা। আমার তো জমানো টাকা নাই।’ শোধ করবেন কীভাবে, এ প্রশ্নে বললেন, ‘১৫-১৬ কাঠা জমি আছে। এক কাঠা বেচব, বেচে ধার শোধ করব। তাছাড়া তো আর কোনো উপায় নাই।’