নিজস্ব প্রতিবেদন published: ৩০ আগস্ট, ২০২৫, ০৮:৩৫ পিএম

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় দুঃস্থ নারীদের জন্য বরাদ্দকৃত ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচিতে নিম্নমানের চাল বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সুবিধাভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা চালে নিম্নমানের লাল চাল মেশানো ছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর গত মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকে চাল বিতরণ বন্ধ করে দেয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন। এছাড়াও ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ভিডব্লিউবি কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ শুরু হয়। কিন্তু ঝালুকা ইউনিয়নে সুবিধাভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা চালে নিম্নমানের লাল চাল মেশানোর অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিতরণ বন্ধ করে দেন। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ইউএনও’র নেতৃত্বে একটি দল দুর্গাপুর খাদ্য গুদাম আকস্মিক পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে খাদ্য গুদামের এফএস-০১ গুদামে বিপুল পরিমাণ খাওয়ার অনুপযোগী লাল চালের মজুদ দেখতে পান কর্মকর্তারা। সেখান থেকে ১৪০ বস্তা নিম্নমানের লাল চাল শনাক্ত করে আলাদা করে রাখা হয়।
দুর্গাপুর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গুদামে নিম্নমানের চাল মজুদের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
অন্যদিকে, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ইয়াছিন আলী বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না।’
এ বিষয়ে ইউএনও সাবরিনা শারমিন বলেন, ‘দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি চালে এ ধরনের অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। খবর পাওয়ার পরপরই আমরা বিতরণ বন্ধ করেছি এবং খাদ্য গুদামে গিয়ে সত্যতা পেয়েছি। সুবিধাভোগীদের হক নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘গুদামে আরও নিম্নমানের চাল মজুদ আছে কিনা এবং এই অনিয়মে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিন সদস্যের ওই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জান্নাতুল ফেরদৌসকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএম শামীম আহম্মেদ ও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আল মামুন। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের দাবি, সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।