বরেন্দ্র অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব মোকাবিলায় নারী ও যুবদের নেতৃত্বে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাজশাহীতে ২০ সদস্যের জলবায়ু অ্যাডভোকেসি ফোরাম গঠন করা হয়েছে। ‘জেন্ডার ইকুয়ালিটি ট্রান্সফর্মস ক্লাইমেট অ্যাকশন (গেটকা)’ প্রকল্পের আওতায় শনিবার (৩০ আগস্ট) সকালে নগরের ডিঙ্গাডোবায় ডাসকো প্রশিক্ষণ কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এ ফোরাম গঠন করা হয়।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ২০ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। নবগঠিত এই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন- রুলফাও নির্বাহী পরিচালক আফজাল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাড. সৈয়দা শামসুন্নাহার মুক্তি। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সহ-সভাপতি চারঘাট লোকমোর্চার সভাপতি শ্রী ব্রজহরি দাশ, নির্বাহী সদস্য ‘সোনার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, শহর ও বস্তি উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক হাসিনুর রহমান, বরেন্দ্র কলেজের প্রভাষক আশরাফুল ইসলাম তোতা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাহাঙ্গীর আলম। এই জলবায়ু অ্যাডভোকেসি ফোরামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে স্থানীয় নারী নেত্রী, যুব প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের। এই ফোরাম ডাসকো ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে, যাতে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে জলবায়ু অভিযোজনের পরিকল্পনায় নারীর কণ্ঠস্বর পৌঁছায়।
সভায় জানানো হয়, সম্প্রতি সরকার বরেন্দ্র অঞ্চলকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে। ডাসকো ও সুইস রেড ক্রসের দীর্ঘ গবেষণার তথ্য তুলে ধরে ডাসকো ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন,“বরেন্দ্র অঞ্চলের ৪৭টি ইউনিয়ন মারাত্মক পানি সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বড় ভুক্তভোগী নারীরা, কারণ খাদ্য, পানি ও জ্বালানি সংগ্রহের মূল দায়িত্ব তাদের।”
সভায় বক্তারা জানান, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনে বাস্তুচ্যুত মানুষের ৮০ শতাংশ নারী। এই বাস্তবতা মোকাবেলায় গেটকা প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে নারীদের নেতৃত্ব বাড়াতে কাজ করা হচ্ছে।
ডাসকোর জেলা সমন্বয়কারী মদন দাস জানান, সুইজারল্যান্ড দূতাবাস ও গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার আর্থিক সহায়তায় প্রকল্পটি ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে জুন ২০২৭ পর্যন্ত রাজশাহীর তানোর, গোদাগাড়ী ও চারঘাট উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হবে। এর মূল লক্ষ্য হলো নারী ও যুবদের নেতৃত্ব নিশ্চিত করে জলবায়ু অভিযোজনের একটি টেকসই মডেল তৈরি করা।
মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন,“বরেন্দ্র অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ভয়াবহ। গেটকা প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় জ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে নারীদের নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিতে হবে।”প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু সহনশীল কৃষি, বিকল্প জীবিকায়ন, নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারে প্রশিক্ষণ এবং নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নারীর কণ্ঠস্বর পৌঁছাতে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।