অনলাইন সংস্করণ published: ২৬ জুলাই, ২০২৫, ০১:৫২ এএম

দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটকের ধর্মস্থালা, প্রায় ৮০০ বছর ধরে হিন্দু তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত, এবার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে আলোচনার কেন্দ্রে। মঞ্জুনাথ মন্দির ঘিরে গণকবর ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দেশজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ৩ জুলাই, যখন নিজেকে মন্দিরের সাবেক পরিচ্ছন্নতাকর্মী দাবি করা দলিত এক ব্যক্তি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি বলেন, ১৯৯৫ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে শতাধিক নারী ও শিশুকে হত্যা করে মন্দির চত্বরে মাটিচাপা দেওয়া হয়, এবং এই কাজে তাকে বাধ্য করা হয়েছিল। মরদেহগুলোর মধ্যে নৃশংস নির্যাতনের চিহ্ন ছিল বলে দাবি করেন তিনি। ইতোমধ্যে কয়েকটি কঙ্কালও উদ্ধার হয়েছে এবং অভিযোগকারী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
এই অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাঙ্গালুরুর একটি আদালত ৮,৮০০টি অনলাইন কনটেন্ট (ফেসবুক পোস্ট, ইউটিউব ভিডিওসহ) মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে এবং সংবাদ প্রচারেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ফলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও ভারতে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। ইতোমধ্যে একটি ইউটিউব চ্যানেল এই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে।
অন্যদিকে, মন্দির কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে, এবং কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকার বিশেষ তদন্ত কমিটি (SIT) গঠন করেছে।
আইনজীবী উমাপাথি এস বলেন, “এটি নিছক একটি বা দুটি মৃত্যু নয়। এখানে গণহত্যা, গণধর্ষণ এবং গণকবরের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে অভিজ্ঞ আইপিএস কর্মকর্তার নেতৃত্বে আরও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।”
এই অভিযোগের পর, ২০০৩ সালে নিখোঁজ হওয়া এক শিক্ষার্থীর পরিবারও ধর্মস্থালার ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছে।